চায়না ফাঁদ ও হানি ট্র্যাপে বিপর্যস্ত বরেন্দ্র জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য

চায়না থেকে আমদানি করা মাছ ধরার ফাঁদ, কৃত্রিম হানি ট্র্যাপ ও রাসায়নিক আকর্ষণকারীর নির্বিচার ব্যবহারে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এসব ক্ষতিকর উপকরণ অবিলম্বে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী এসকে

ই

ইনসাইড ডেস্ক

Inside Bangla

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পড়তে ২ মিনিট

চায়না ফাঁদ ও হানি ট্র্যাপে বিপর্যস্ত বরেন্দ্র জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য
ছবি: Inside Bangla
Aa

চায়না থেকে আমদানি করা মাছ ধরার ফাঁদ, কৃত্রিম হানি ট্র্যাপ ও রাসায়নিক আকর্ষণকারীর নির্বিচার ব্যবহারে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এসব ক্ষতিকর উপকরণ অবিলম্বে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী এসকে সেমিনার হলে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার, গ্রিন কোয়ালিশন–রাজশাহী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানেবিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীর পদ্মা নদীসহ নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার নদী, বিল, খাল ও মৌসুমি জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জাল, ছাতা জাল, মোনোফিলামেন্ট কারেন্ট জালের পাশাপাশি লেড লাইট, রাসায়নিক হানি ট্র্যাপ ও ইলেকট্রিক ফিশিং ডিভাইস ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত মাছ বৃদ্ধির জন্য হরমোনাল ইনজেকশন ও বন্ধ্যাত্বকরণ ট্যাবলেট প্রয়োগ করায় জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে। এতে দেশি মাছ ও জলজ উদ্ভিদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং জলাভূমিনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা ঝুঁকিতে পড়েছে।

পবা উপজেলার বারনই নদীপাড়ের মৎস্যচাষী আবু সামা বলেন, পুকুরে ব্যবহৃত হরমোন ও রাসায়নিক বৃষ্টি ও বন্যার পানির সঙ্গে মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আগের মতো আর দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শহিদুল ইসলাম গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, এসব প্রযুক্তি স্বল্পমেয়াদে কিছু জেলের আয় বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে জলাশয়কে কার্যত ‘মৃত’ করে দিচ্ছে। রাসায়নিক হানি ট্র্যাপে ব্যবহৃত উপাদান খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি জানান, নিষিদ্ধ এসব চায়না ফাঁদ ও রাসায়নিক হানি ট্র্যাপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। যদিও মৎস্য সুরক্ষা আইন–১৯৫০ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এসব নিষিদ্ধ, তবুও কার্যকর তদারকির অভাবে আমদানি ও ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন, এটি শুধু প্রযুক্তির অপব্যবহার নয়—এটি মৎস্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত ব্যর্থতা।সংবাদ সম্মেলনে জলাভূমিতে বিষ, হানি ট্র্যাপ, বৈদ্যুতিক শক ও অবৈধ মাছ ধরার উপকরণ নিষিদ্ধ, চায়না থেকে এসব সামগ্রীর আমদানি বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা, জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় লোকায়ত জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত, জলাভূমিনির্ভর জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বন্ধের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের জলাভূমি ও মৎস্য সম্পদ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে, যা জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এই খবরের মূল কথা

    একই বিষয়ের আরও খবর

    আরও পড়ুন