জহির রায়হানকে হারানোর ৫৪ বছর!

দেশের চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে অনন্য এক প্রতিভার নাম জহির রায়হান। তাকে চলচ্চিত্রের অভিভাবকও বলা হয়। বরণীয় এই বুদ্ধিজীবী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরে নিখোঁজ বা নিহত হন। তাকে হারানোর ৫৪ বছর আজ। আজকের দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাশ

ই

ইনসাইড ডেস্ক

Inside Bangla

৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
পড়তে ২ মিনিট

জহির রায়হানকে হারানোর ৫৪ বছর!
ছবি: Inside Bangla
Aa

দেশের চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে অনন্য এক প্রতিভার নাম জহির রায়হান। তাকে চলচ্চিত্রের অভিভাবকও বলা হয়। বরণীয় এই বুদ্ধিজীবী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরে নিখোঁজ বা নিহত হন। তাকে হারানোর ৫৪ বছর আজ। আজকের দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাশাপাশি দেশের টেলিভিশন ও অন্য প্রচারমাধ্যমগুলোও থাকছে বিশেষ আয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের মাধ্যমে অপহৃত হন তার ভাই আরেক বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার। যুদ্ধের শেষে ভাইকে খুঁজতে গিয়েই নিখোঁজ হন জহির রায়হান। ১৯৭২ সালের ২৮ জানুয়ারি সকালে জহির রায়হানকে ফোন করেন এক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানেবিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

ওই ব্যক্তি জহির রায়হানকে জানান, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে হাউজিং সেক্টরে আটকে রাখা হয়েছে তার ভাইকে। জহির রায়হান মিরপুর যান। কিন্তু আর ফেরেননি। পরে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হানের মৃত্যুদিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী ও লেখক জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট। ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে যুগের আলো পত্রিকায় যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জহির রায়হান। পরে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ।

জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- কখনো আসেনি, স্টপ জেনোসাইড, এ স্টেট ইজ বর্ন, জীবন থেকে নেওয়া, কাঁচের দেয়াল ইত্যাদি। তবে জীবন থেকে নেওয়া ছবিটি তাকে এ দেশের চলচ্চিত্রে অমরত্ব দান করেছে।

সাহিত্য রচনায়- শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কত দিন, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা ইত্যাদি গল্প-উপন্যাসে আভাস মিলে স্বতন্ত্র আর সাবলীল লেখনীর। তার মধ্যে হাজার বছর ধরে উপন্যাসটিকে বলা হয় জহির রায়হানের অনন্য সৃষ্টি। এটিকে নিয়ে জহির রায়হানের দ্বিতীয় স্ত্রী চিত্রনায়িকা সুচন্দা চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেন। ছবিটি বেশ কয়েকটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। এ ছাড়া চলচ্চিত্র বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিগার পুরস্কার, একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন জহির রায়হান।

এই খবরের মূল কথা

    একই বিষয়ের আরও খবর

    আরও পড়ুন