নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানহীন খাবারে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
ইনসাইড ডেস্ক
Inside Bangla
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
পড়তে ২ মিনিট

ইকবাল মাহমুদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হলগুলোর ডাইনিং এবং কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাবারের সংকটের পাশাপাশি নেই মানসম্মত খাবার। অভিযোগ রয়েছে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনার অভাবে মেয়েদের দোলনচাঁপা হলের ডাইনিং প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী, যারা নিয়মিত ডাইনিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।
মেয়েদের হল শিউলিমালাতেও খাবারের মান নিয়ে রয়েছে একই ধরনের অসন্তোষ। অনেকের মতে, কোনোভাবে খেয়ে থাকা যায় এমন অবস্থায় নেমে এসেছে খাবারের মান।
ছেলেদের বিদ্রোহী হলে খাবার নিয়ে অভিযোগ বেশি। নতুন করে ডাইনিংয়ের মালিকানা পরিবর্তন হলে কিছুদিন খাবারের মান ভালো থাকে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবার ফিরে আসে আগের মতো নিম্নমান ও অব্যবস্থাপনা। ছেলেদের আরেক হল অগ্নিবীণা হলের খাবারে একাধিকবার পোকা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর চালু হওয়া কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতেও ফিরেনি শিক্ষার্থীদের আস্থা। খাবারের নিম্নমান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এখান থেকে। ফলে খাবারের সময়গুলোতেও ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায় ক্যাফেটেরিয়া।
সবমিলিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে খাবারের দাম বাড়লেও মান কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় খাবারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে সময়ও নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
দোলনচাঁপা হলে শিক্ষার্থী জান্নাতুল সেলি বলেন, দোলনচাঁপা একটি সুবিধা বঞ্চিত হল। এখানে গত কয়েক মাস ধরে ডাইনিং সম্পূর্ণই বন্ধ। এর ফলে হলে মেয়েরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সব সময় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এই যে আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে দিনে ২-৩ বার আমাকে বের হতে হচ্ছে।
শিউলিমালা হলের শিক্ষার্থী জুথি বলেন, শিউলি মানে হলের খাবার একদমই স্বাস্থ্যসম্মত না, কোন হাইজেন মেনটেন করে না। এমনকি বাসি খাবারও দেয়। বাসি খাবার বোঝা যায় এরপরে তাদের বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়না। খাবারে চুল, পোকামাকড়ও পাওয়া যায়।
বিদ্রোহী হলের শিক্ষার্থী বলেন, “অধিকাংশই হলের বাহিরে খাবার খায়। কারণ এখানের খাবার একদম স্বাস্থ্যসম্মত না। হলের খাবারে হাইজেন মেনটেন করা হয় না, এই সমস্যা সমাধানের প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আনহাইজেনিক খাবারে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকে। ফলে টাইফয়েড, ডাইরিয়া, গ্যাস্টিকের সমস্যা , জন্ডিস, পেটে কামড়ানো ইত্যাদি সাধারণ এইসব রোগ হতে পারে।
বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ” হল প্রশাসনের কাছে এর আগে অভিযোগ আসতো সেক্ষেত্রে আমরা তাদের সাথে কথা বলতাম ফলে কিছু মান উন্নতি হত। বিগত ২ মাস কোন অভিযোগ পাইনি আর যেহেতু এখন শুনলাম আমি অবশ্যই আমরা তাদের সাথে কথা বলব”
শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের মৌলিক চাহিদা নিরাপদ খাবার। সেই প্রয়োজন মেটাতে এখন কার্যকর উদ্যোগই দেখার অপেক্ষা।
এই খবরের মূল কথা
একই বিষয়ের আরও খবর

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নেতৃত্বে ইকবাল-মীম
৩৪ দিন আগে

হাবিপ্রবিতে ‘ভেটেরিনারি প্রিমিয়ার লীগ ২০২৬’ এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ডিভিএম ২৩ ব্যাচ
৩৯ দিন আগে

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুপক্ষে সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
৪১ দিন আগে

চারবার ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর স্টার্টআপ ‘সুপারজেন’
৫৯ দিন আগে
