বৃক্ষরোপণও হতে পারে অ্যাসাইনমেন্ট: হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ইফাত হোসেন জীম, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর মার্কেটিং বিভাগ। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ এবার ঈদুল

ই

ইনসাইড ডেস্ক

Inside Bangla

৫ জুন, ২০২৬
পড়তে ২ মিনিট

বৃক্ষরোপণও হতে পারে অ্যাসাইনমেন্ট: হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ছবি: Inside Bangla
Aa

ইফাত হোসেন জীম, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর মার্কেটিং বিভাগ। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব একটি অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করেছেন—প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানেবিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

জানা যায়, বিভাগের ২৪তম ও ২৫তম ব্যাচের প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীকে ছুটিকালীন অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে একটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই কাজ সম্পন্ন করলে একজন শিক্ষার্থী ১ নম্বর অর্জন করবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ। তিনি বলেন,“আমি মনে করি, একজন শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের একটি ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি সমাজ ও দেশের ওপর পড়া উচিত। আমরা পড়াশোনা করি মূলত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য। তাই এই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগায়, তাহলে এর সম্মিলিত প্রভাব ভবিষ্যতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।

গ্র্যাজুয়েশনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে জাতীয় পর্যায়ে সংযুক্ত করার ধারণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপাইন-এ ‘Graduation Legacy for the Environment’ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশনের আগে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ লাগাতে উৎসাহিত করার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়; সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। তাই গ্র্যাজুয়েশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করা সময়োপযোগী ও অর্থবহ উদ্যোগ হতে পারে।”

এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। মার্কেটিং বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল রায় বলেন,“এর আগে গাছ লাগানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার অনুভূতিটা একটু ভিন্ন ছিল। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে গাছ লাগানো নয়, আমাদের ২৪ ও ২৫ ব্যাচের সবাই মিলে একটি ভালো উদ্যোগের অংশ হওয়া ছিল। ভাবতে ভালো লাগে যে আমরা সবাই মিলে পরিবেশের জন্য ছোট হলেও একটি ইতিবাচক কাজ করেছি।”

২৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন,“এই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শুধু গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে জানিনি, নিজের হাতে একটি চারা রোপণ করে এক ধরনের আনন্দ ও তৃপ্তিও অনুভব করেছি। ছোট্ট এই গাছটি বড় হয়ে পরিবেশের উপকার করবে—এই ভাবনাটি আমাকে ভীষণ ভালো লেগেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং পরিবেশের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ বাড়িয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষিত জনশক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতা বিকাশেরও অন্যতম ক্ষেত্র। হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের এই উদ্যোগ সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও সমাজমুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই খবরের মূল কথা

    একই বিষয়ের আরও খবর

    আরও পড়ুন