শেষ আশা গুচ্ছ: সন্তানের সাফল্যের আশায় অভিভাবকদের অপেক্ষার প্রহর গোনা

ইকবাল মাহমুদ,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি ভবনে ভর্তি পরীক

ই

ইনসাইড ডেস্ক

Inside Bangla

৩ এপ্রিল, ২০২৬
পড়তে ২ মিনিট

শেষ আশা গুচ্ছ: সন্তানের সাফল্যের আশায় অভিভাবকদের অপেক্ষার প্রহর গোনা
ছবি: Inside Bangla
Aa

ইকবাল মাহমুদ,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি ভবনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭ হাজার ৭ জন পরীক্ষার্থীর।

বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানেবিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

তবে শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের মাঝেও ছিল এক ধরনের উৎকণ্ঠা আর অজানা চাপ। বুকভরা আশা আর দোয়া নিয়ে সন্তানদের পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অপেক্ষা করেছেন তারা। অনেকের কাছেই এই ভর্তি পরীক্ষাই শেষ সুযোগ।

দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এই গুচ্ছ পরীক্ষাকে ঘিরেই এখন তাদের সব প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের পড়াশোনার পেছনে সময়, শ্রম আর স্বপ্ন ঢেলে দেওয়া এসব অভিভাবক চান সন্তান যেনো নিজের জায়গা করে নিতে পারে।কেউ এসেছেন দূর জেলা থেকে, কেউ বা কাছাকাছি এলাকা থেকে। কারও পাশে মা, কারও পাশে বাবা, আবার কেউ এসেছেন পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে। তীব্র গরম আর ক্লান্তি উপেক্ষা করেই তারা বসে আছেন গাছের ছায়ায়, অভিভাবক কর্ণারে কিংবা খোলা জায়গায় শুধু একটি আশায়, পরীক্ষা শেষে সন্তান ভালো খবর নিয়ে বের হবে।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাষ্কর্যের আসেপাশে, সিঙাড়া হাউজের আসেপাশে, টিএসসির বিশ্রামাগার, অগ্নিবীণা হলের আসেপাশে, সেতুবন্ধ সংলগ্ন মাঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে গাছপালার ছায়ায় অভিভাবকদের উপস্থিতি প্রবলভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য বসার বন্দোবস্ত থাকলেও অনেকেই সময় কাটিয়েছেন একান্ত নিরিবিলিতে, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে। তবে ভ্যাপসা গরম অনেকটাই কাহিল করে তুলেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এসব স্থান ঘুরে দেখা যায়, অভিভাবকদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাজ। দূরদূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের কেউ একে অপরের সঙ্গে গল্প করছেন আবার কেউ পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে। চেষ্টা করছেন গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ফ্যানের সামনে অথবা কোন গাছের ছায়ায় একটু বসার জায়গা পেতে। তবে সবকিছু ভুলে সন্তানের সফলতার স্বপ্ন দেখছেন অভিভাবকরা।

সেতুবন্ধ সংলগ্ন মাঠে বসা গাজিপুর থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন, “আমার মেয়ে নিয়ে এসেছি। অনান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে কোথাও চান্স হয়নি, শেষ এটাতে দিচ্ছে। আমার ছেলে নেই আমার তিনটা মেয়ে আমি চাই যেনো তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এই প্রত্যাশা নিয়েই এসেছি। আমি সহ সকল অভিভাবকই চাই তার সন্তান ভালো কিছু করুক। “

গাজিপুর থেকে আসার আরেক অভিভাবক বলেন, “আমরা এখানে বসে আছি ভিতরে আমার মেয়ে পরিক্ষা দিচ্ছে। আমার বড় মেয়েও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করছে। আমি চাই আমার মেয়ে যেনো চান্স পায়। সবসময় তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। “

প্রসঙ্গত, এ বছর গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বরাবরের মতো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মানবিক শাখাভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ সি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১০ এপ্রিল ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এই খবরের মূল কথা

    একই বিষয়ের আরও খবর

    আরও পড়ুন