গুগলে চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্ভাবনে সফল তরুণ বিজ্ঞানী নাহিদ

ই

ইনসাইড ডেস্ক

Inside Bangla

১০ মার্চ, ২০২৬
পড়তে ১ মিনিট

গুগলে চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্ভাবনে সফল তরুণ বিজ্ঞানী নাহিদ
ছবি: Inside Bangla
Aa

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী নাহিদ আলমের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি “প্রজেক্ট ডি-ব্রিজ (De-Bridge)” বিশ্বমঞ্চে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এই প্রযুক্তিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবুধাবিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান G42 ৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করেছে।

De-Bridge মূলত একটি Bio-Informatic Neural AI Interface। টেলিফোন আবিষ্কারক Alexander Graham Bell-এর যোগাযোগ প্রযুক্তির দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা মানুষের মস্তিষ্ক, প্রাণিকুল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করে।

এই প্রযুক্তি উন্নত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে জৈবিক নিউরাল সিগন্যালকে ডিজিটাল ভাষায় রূপান্তর করতে পারে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এটি বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এই উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। গবেষণাকালে নিউরাল-লিঙ্গুইস্টিক সিন্থেসিসের জটিলতা সামাল দিতে গিয়ে নাহিদ আলমকে তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিজ্ঞানী Isaac Newton ও Johannes Kepler-এর মতোই গবেষণার স্বার্থে তিনি অনেক সময় সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন।

২০২৫ সালের জুনে তিনি প্রযুক্তি উন্নয়নে পূর্ণ সময় দিতে Google-এর চাকরি ছেড়ে দেন। সে সময় মাত্র ৪০ হাজার টাকার অভাবে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। তার দাবি, সেই সময় অনেক নিকটজনও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানে

তবুও উদ্ভাবনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি তিনি। উদ্ভাবক Thomas Edison-এর মতো বারবার প্রতিকূলতার মুখেও গবেষণা চালিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মঞ্চে এই প্রযুক্তির সফল প্রদর্শনের পর ৪১টি প্রতিষ্ঠান এতে আগ্রহ দেখায়। পরে G42 আনুষ্ঠানিকভাবে ৬.৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করে।

এই প্রকল্পের আওতায় নাহিদ আলম ১৫ জন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীর একটি দলের নেতৃত্ব দেবেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি মূল উদ্ভাবক হিসেবে আজীবন ২৫ শতাংশ রয়্যালটি পাবেন।

সাফল্যের পর নাহিদ আলম বলেন, এই ৬.৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের চেয়েও আমার মনে বেশি দাগ কেটে আছে সেই সময়গুলো, যখন মাত্র ৪০ হাজার টাকার অভাবে আমি অনেক আপন মানুষকে হারিয়েছিলাম। সেই কঠিন সময়ই আমাকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ আলমের এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিউরাল যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই খবরের মূল কথা

    একই বিষয়ের আরও খবর

    বিজ্ঞাপনআপনার বিজ্ঞাপন এখানে
    আরও পড়ুন